ডাঃ জাকির নায়েক, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য সম্পর্কে কিছু বলুন

আলহামদুলিল্লাহ্‌ ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আ’লা রাসুলিল্লাহ ওয়া আ’লা আলি আস সাহাবায়ি আজমায়িন।আম্মাবাদ।

قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي
وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي
وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِي
وَاجْعَل لِّي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي

আমার শ্রদ্ধেয় গুরুজনেরা এবং ভাই-বোনেরা, আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাই ইসলামী সম্ভাষনে, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার দয়া এবং রহমত আপনাদের সবার উপর বর্ষিত হোক। আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে ‘মুসলিম উম্মার ঐক্য’। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ন,একেবারে আলাদা ও অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইসু।আমার বেশীর ভাগ বক্তব্যের উদ্দেশ্য থাকে ‘দাওয়াহ’।আমি সাধারনত দুই ধরনের বক্তব্য দিয়ে থাকিঃ- একটা ধরন হচ্ছে, comparetive religion । হিন্দু-ইসলাম ধর্মের সাদৃশ্য,ইসলাম-খৃষ্টান ধর্মের সাদৃশ্য, যিশুখৃষ্ট কি ক্রশবিদ্ধ হয়েছিলেন ? ইত্যাদি।এছাড়াও ইসলাম ও বিজ্ঞান, ইসলামে নারীর অধিকার, ইসলাম কতটা বিজ্ঞান সম্মত, সঠিক জীবন ব্যবস্থা। এতে মুসলিম-অমুসলিম সবাই উপকৃত হয়।

সামান্য কয়েকজন মুসলমান মনে করে যে, কুরআন না বুঝে পড়লেও চলবে।তবে অধিকাংশ মনে করেন,কুরআন বুঝে পড়তে হবে।

ক) মাযহাবঃ- মুসলিমদের মধ্যে এখন অনেক সম্প্রদায়, যাকে মাযহাব,মাছলাক কিংবা মুসাল্লাক নামে আখ্যা দেয়া যায়। আমার বক্তব্যের একটা বড় অংশ প্রশ্নোত্তর পদ্ধতিতে, যেন সবাই সহজে বক্তব্য বুঝতে পারে।

খ) ঐক্যের point:- আপনারা জানেন দা ওয়াহ দেবার master key হিসাবে পবিত্র কুরআন কি বলছে ?

“ বলঃ হে আহলি কিতাব! এসো এমন একটি কথার দিকে, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই ধরনের ৷তা হচ্ছেঃ আমরা আল্লাহ ছাড়া কারোর বন্দেগী ও দাসত্ব করবো না৷ তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবো না৷ আর আমাদের কেউ আল্লাহ ছাড়া আর কাউকেও নিজের রব হিসেবে গ্রহন করবে না ৷ যদি তারা এ দাওয়াত গ্রহণ করতে প্রস্তুত না হয়, তাহলে পরিষ্কার বলে দাওঃ ‘‘তোমরা সাক্ষী থাকো, আমরা অবশ্যি মুসলিম (একমাত্র আল্লাহর বন্দেগী ও আনুগত্যকারী)”।

“তোমাদের” বলতে এখানে খৃষ্টান-ইহুদীদের বুঝানো হয়েছে।তবে আমার মতে এটা দিয়ে হিন্দু,বৌদ্ধ অথবা জৈনদের জন্যও প্রযোজ্য হতে পারে।যদি আর এক ধাপ এগিয়ে যান, তাহলে এটা মুসলামানদের জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে।

মুসলিম উম্মাহর মধ্যে মতভেদ হলে,সেটা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে বড় সমাধান হোলঃ-

“এসো সেই কথায় যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই”

এটাই ইসলাহ দেবার সহজ উপায়, যাতে মুসলমানরা সবাই সরল পথে আসতে পারে।কুরআনের পর মুসলিমদের জ্ঞ্যানের সবচেয়ে বড় উতস হচ্ছে হাদিস।হাদিসের মধ্যে আমরা জাল,দূর্বল ছাড়া

সহীহ হাদিসগুলো মেনে চলবো।এই প্রশ্নগুলোর একই জবাব হবে,তা সে যে মাযহাবের হউক না কেন।

গ) বিভিন্ন দলঃ- যখন কোন মুসলিমকে বলি কোন মাযহাম মেনে চলেন।বেশীল ভাগ ভারতীয় মুসলিম বলে তারা হানাফী। সামান্য কিছু লোক বলবে তারা শাফেয়ী। ভারতের বাহিরে কিছু লোক বলবে তারা মালেকী কিংবা হাম্বলী।যদি বলি আপনি হানাফী কেন, কেন শাফেয়ী,মালেকী কিংবা হাম্বালী না ? তখন তারা বলে আমার মা-বাবা এটা মেনে চলে আমিও এটা মানি। যদি বলি, আপনার মা-বাবা যদি অমুসলিম হোত তাহলে আপনি কি হতেন ?

সে বলবে,হয়তো অমুসলিম হতাম।আমার প্রশ্ন, এতে কি আপনি মাফ পাবেন।সে কোন জবাব দিতে পারবেনা।হ্যা, বলার কোন উপায় নাই ।কারন তাহলে ইহুদী,খৃষ্টান, হিন্দুসহ সবাই মাফ পাবেন।সে কিছুক্ষন চিন্তা করে বলবে যে,যদি আল্লাহ হেদায়েত করেন, তাহলে তিনি মুসলিম হবেন। তাকে বল্লাম মহান আল্লাহ বলছেনঃ-

“ যারা আমার জন্য সংগ্রাম- সাধনা করবে তাদেরকে আমি আমার পথ দেখাবো৷ আর অবশ্যই আল্লাহ সৎকর্মশালীদেরই সাথে আছেন”৷ সুরা আন-কাবুত-৬৯

সংগ্রামের শর্ত সাপেক্ষে আল্লাহ আপনাকে হিদায়াত দান করবেন।আপনার গত কয়েতদিন দেখেছেন,অনেক অমুসলিম আমাকে প্রশ্ন করেছেন, আমিতো অমুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেছি। আমার দোষ কোথায় ?আমি তাদের উত্তর দিয়েছিলাম,আপনি ইসলাম গ্রহন করুন, তাহলে আপনার আগের সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।ভবিষ্যতেও অমুসলিমরা মুসলিম হবে। তাহলে মাফ পাবার শর্ত হোল, আপনাকে সংগ্রাম করতে হবে।কোনো অমুসলিম আপনাকে হয়তো প্রশ্ন করলো, আপনি কেন মুসলিম ? আপনি উত্তর দিলেন,আমার বাবা-মা মুসলিম বলেই আমি মুসলিম।যদি সে আবার প্রশ্ন করে, সত্যিকরে বলুন তো, আপনি কোনদিন সত্যি জানার চেষ্টা করেছেন ? এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হবার আগেই আপনার কুরআন-হাদিস সবকিছু জানা উচিত।

ঘ) ৪ মাযহাবের পার্থক্যের ধরন।

প্রশ্ন- যদি একজন পুরুষ একজন মহিলাকে স্পর্শ করে তাহলে, ওজু থাকবে কিনা ? হানাফী বলবে, থাকবে কিন্তু শাফেয়ী মাযহাব বলবে থাকবে না।এখন প্রশ্ন হোল, দুটোই একসাথে ঠিক হতে পারেনা।মহান আল্লাহর পথে সংগ্রাম করা ছাড়া সবার পক্ষে এটা জানা সম্ভব না।

১) মহান আল্লাহ বলেন,

“হে ঈমানদারগণ ! যখন তোমরা নামাযের জন্য তৈরী হও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত দুটি কনুই পর্যন্ত ধুয়ে ফেলো, মাথার ওপর হাত বুলাও এবং পা দুটি গোড়ালী পর্যন্ত ধুয়ে ফেলো৷ যদি তোমরা ‘জানাবাত’ অবস্থায় থাকো, তাহলে গোসল করে পাক সাফ হয়ে যাও৷ যদি তোমরা রোগগ্রস্ত হও বা সফরে থাকো অথবা তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি মলমূত্র ত্যাগ করে আসে বা তোমরা নারীদেরকে স্পর্শ করে থাকো এবং পানি না পাও, তাহলে পাক-পবিত্র মাটি দিয়ে কাজ সেরে নাও৷ তার ওপর হাত রেখে নিজের চেহারা ও হাতের ওপর মসেহ করে নাও৷ আল্লাহ তোমাদের জন্য জীবনকে সংকীর্ণ করে দিতে চান না কিন্তু তিনি চান তোমাদেরকে পাক-পবিত্র করতে এবং তাঁর নিয়ামত তোমাদের ওপর সম্পূর্ণ করে দিতে, হয়তো তোমরা শোকর গুজার হবে”। সুরা মায়েদা-০৬

এখানে আরবী শব্দ ‘লামাস’ থেকে ‘মাসা’ প্রয়োগ করা হয়েছে।এটার দুটো অর্থঃ- একটা হোল স্পর্শ করা,আরেকটা হোল সহবাস করা।ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম শাফেয়ী দু’জনেই মহান আলেম ও উনারা খুবই জ্ঞ্যানী ছিলেন। কিন্তু দুইজনে “লামাস” শব্দের অর্থ দুই রকম মনে করাতে ব্যাখ্যা দুইরকম হয়ে গেছে।

“একথা শুনে মারয়াম বললোঃ ‘‘হে আমার প্রতিপালক ! আমার সন্তান কেমন করে হবে? আমাকে তো কোন পুরুষ স্পর্শও করেনি৷’ জবাব এলোঃ ‘‘এমনটিই হবে ৷ আল্লাহ যা চান সৃষ্টি করেন ৷ তিনি যখন কোন কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন তখন কেবল এতটুকুই বলেন, হয়ে যাও, তাহলেই তা হয়ে যায়৷”। সুরা আল ইমরান-৪৭

একই শব্দের প্রয়োগ সুরা সুরা আল-ইমরানেও হয়েছে, মরিয়মের কথা বর্ননা করতে যেয়ে। “আমার সন্তান কেমন করে হবে? আমাকে তো কোন পুরুষ স্পর্শও করেনি৷”

এখানে স্পর্শ বলতে সহবাস বুঝানো হয়েছে।

২) “বিবি আয়েশা(রাঃ) বল্লেন, ‘একবার নবীজী(সঃ) তার একজন স্ত্রীকে চুমু দিয়ে নামাযে চলে গেলেন।তিনি আবার উযু করেননি।তখন উরওয়া(রাঃ) বল্লেন, সে স্ত্রীতো আপনি ছাড়া আর কেউ নন।আয়েশা(রাঃ) তখন হেসে উঠলেন। আবু দাউদ-১ম খন্ড-১৭৯

ইমাম আবু হানিফার মতামত এক্ষেত্রে সঠিক। কারন তার মত কুরআন ও হাদিসের বর্ননার সাথে মিলে যায়।

ঙ) আস্তে ও জোরে ‘আমীন’ বলা।

ফজর মাগরিব ও এশার নামাযে, ইমামের সুরা ফাতেহা পড়া শেষ হবার পর, হানাফী মাযহাব নামায পড়ার সময় আস্তে করে আমীন বলে কিন্তু ইমাম শাফেয়ীর মত অনুযায়ী ‘আমীন’ জোরে বলতে হবে। এখানে কে সঠিক ? কুরআনে এধরনের কোন আয়াত নাই। সহীহ হাদিস দেখতে হবে।

“নবীজী মুহাম্মাদ(সাঃ) বলেছেন, সুরা ফাতিহার শেষ হলে শব্দ করে আমীন বলো; যদি তোমরা ফেরেস্তাদের সাথে শব্দ করে বলো, তাহলে অতীতের সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে”। বুখারী-১ম খন্ড-১১১,১১২,৭৮২

এখানে ইমাম শাফেয়ী ঠিক কারন, উনার মতামত সহীহ হাদিসের সাথে মিলে যাচ্ছে। ইমাম আবু হানিফার পক্ষে কোন হাদিস নাই।

এখন মনে করুন, কোন নও মুসলিম যদি বলে, ভাই জাকির কোন মহিলা আমাকে স্পর্শ করলে কি ওযু ভেংগে যাবে ? আমি কি তাকে জিজ্ঞাসা করবো, আপনার বাবা কি সাফেয়ী ছিল না হানাফী ? তার বাবা তা ছিল অমুসলিম। তাকে তো অবশ্যই বলতে হবে, কুরআন হাদিস অনুযায় যেটা পাওয়া যায় সেটাই সঠিক।

উপরের ২টি ব্যাপারে কি তাহলে ইমাম আবু হানিফা কিংবা ইমাম শাফেয়ীর কথাগুলো ভুল ?আমরা উনাদের সবাইকে শ্রদ্ধা করি,ভালবাসি। আমাদের নবী(সঃ) বলেছেন, যদি কেউ কুরআন-হাদীস বিশ্লেষন করে, কোন বিষয়ে ফয়সালা দেয়, আর যদি তা সঠিক হয়, তাহলে সে দুটো পুরস্কার পাবে।যদি ফয়সালা ভুল হয়, তাহলে একটি পুরস্কার পাবে। এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের ‘মুফতি” বলা হয়।

ইমাম আবু হানিফা(র) ও ইমাম শাফেয়ী(র) বেচে থাকার সময় হাদীসগুলো সংগ্রহ করা হয়নি।হাদীস সংগ্রহ শুরু হয়েছে অনেক আগে ও শেষ হয়েছে অনেক পরে।উপরের দুইটা ব্যাপারে উনাদের সিদ্ধান্ত দেবার যোগ্যতা যে ছিল না, এমন না।মূল কথা হচ্ছে হাদিসগুলো উনাদের কাছে না পৌছার ফরে দুজনের সিদ্ধান্ত দু’রকম হয়ে গেছে।

কুরআনের সাথে মিশে যেতে পারে এই ভেবে, নবী বেচে থাকতে এগুলো সংগ্রহ করা হয়নি। উনার ইন্তেকালের পর সাহাবীরা উনার উদ্ধৃতি দিতে থাকে।কেউ কেউ এমন কথা বলা শুরু করলো নবী(সঃ) বলেননি। তখন সাহাবীরা বল্লো আমরা তদন্ত করে দেখবো, নবীজী(সঃ) একথা বলেছেন কিনা ? মহানবী(সঃ) এর ইন্তেকালের পর হাদিস সংগ্রহ শুরু হয়। ইমাম আবু হানিফা(র),ইমামা(র) মালেক,ইমাম(র) শাফেয়ী, ইমাম(র) আহমদ বিন হাম্বল(র) মহান ইমামের সময়েও হাদিস সংগ্রহ চলছিল।আল্লাহ এই মহান ব্যাক্তিদের শান্তিতে রাখুন। পরবর্তীতে ইমাম

বুখারী,মুসলিম,তিরমিযী,আবু দাউদ আসলেন। এগুলো ছিল ৪ মাযহাবের পরের ঘটনা। এই কারনে, ৪ মাযহাব উনাদের পাওয়া হাদিসের ভিত্তিতে রায় দিয়েছিল।

এখন সময় হচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তির যুগ।তখন একটা হাদীস সগ্রহ করার জন্য বহুদূর যেতে হয়েছে।লিখার জায়গা ছিল না।এখন ফটোষ্টেট মেশিন আছে,ই-মেইল তথ্য পাঠানোকত সহজ। সমস্ত কুরআন-হাদিস বিনা টাকায় online-এ পাওয়া যাচ্ছে। সমস্ত হাদিস একটা ডিস্কে পেতে পারেন। ফলে কার কাছে কি তথ্য আছে, এটা জানা এখন খুবই সহজ হয়ে যাচ্ছে। এই জানাটা তখন মোটেই সহজ ছিলনা।

উনারা অক্লান্ত পরিশ্যম করে সংগ্রহ করে রাখার ফলে, আমাদের জন্য সবকিছু সহজ হয়ে গেছে।

চ) আল কুর আনে ঐক্যের ডাক

মুসলিম উম্মাহর একতার জন্য, সমাধানটা আমাদের কাছেই আছে। মহান আল্লাহ বলেন ,

১) “তেমরা আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারন কর,পরস্পর বিছিন্ন হইও না”। সুরা আল-ইমরান-১০৩

২) “আল্লাহ ও তার রাসুলকে মেনে চলো”।(কুরআনের ২০টি স্থানে)

৩) “যারা দ্বীন সম্পর্কে নানা মতের সৃষ্টি করেছে এবং দলে বিভক্ত হয়েছে , তাদের কোন দায়িত্ব তোমার নয়”। সারা আন’আম-১৫৯

৪) “প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাও একথার ওপর আল্লাহ অভিমুখী হয়ে এবং তাকে ভয় করো, আর নামায কায়েম করো এবং এমন মুশরিকদের অন্তরভুক্ত হয়ে যেয়ো না, যারা নিজেদের আলাদা আলাদা দীন তৈরি করে নিয়েছে আর বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গেছে ৷ প্রত্যেক দলের কাছে যা আছে তাতেই তারা মশগুল হয়ে আছে”৷ সুরা আর-রুম-৩১৩২

৫) কিন্তু পরে লোকেরা নিজেদের দীনকে পরস্পরের মধ্যে টুকরো করে নিয়েছে ৷ প্রত্যেক দলের কাছে যা কিছু আছে তার মধ্যেই নিমগ্ন হয়ে গেছে৷ সুরা-মুমিনুন-৫৩

৬) এ দীনকে কায়েম করো এবং এ ব্যাপারে পরস্পর ভিন্ন হয়ো না৷

মানুষের কাছে যখন জ্ঞান এসে গিয়েছিল তারপরই তাদের মধ্যে বিভেদ দেখা দিয়েছে৷ আর তা হওয়ার কারণ তারা একে অপরের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করতে চাচ্ছিলো৷ সুরা শুরা-১৩,১৪

৭) ইবরাহীম ইহুদী ছিল না,খৃস্টানও ছিল না বরং সে তো ছিল একজন একনিষ্ঠ মুসলিম ৫৯ এবং সে কখনো মুশরিকদের অন্তরভুক্ত ছিল না ৷ ইবরাহীমের যারা অনুসরণ করেছে তারাই তার সাথে ঘনিষ্ঠতম সম্পর্ক রাখার অধিকারী ৷ সুরা-আল-ইমরান-৬৭

৮) আল্লাহর পথে জিহাদ করো যেমন জিহাদ করলে তার হক আদায় হয়৷ তিনি নিজের কাজের জন্য তোমাদেরকে বাছাই করে নিয়েছেন এবং দীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা আরোপ করেননি৷ তোমাদের পিতা ইবরাহীমের মিল্লাতের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাও৷ আল্লাহ আগেও তোমাদের নাম রেখেছিলেন “মুসলিম”এবং এর (কুরআন) মধ্যেও (তোমাদের নাম এটিই) যাতে রসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন এবং তোমরা সাক্ষী হও লোকদের ওপর৷ কাজেই নামায কায়েম করো, যাকাত দাও এবং আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যাও৷ তিনি তোমাদের অভিভাবক, বড়ই ভালো অভিভাবক তিনি, বড়ই ভালো সাহায্যকারী তিনি৷ সুরা হজ্জ্ব- ৭৮

৯) “সেই ব্যাক্তির চেয়ে আর কে উত্তম হতে পারে যে,মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করে আর বলে আমি তো মুসলিম।

সুরা ফসসিলাত-৩৩

১০) “আমি আদৃষ্ট হয়েছি,যাতে করে আমি প্রথম মুসলিম হতে পারি”।

সুরা যুমার-১২

১১) “বলঃ হে আহলি কিতাব! এসো এমন একটি কথার দিকে, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই ধরনের ৷ তা হচ্ছেঃ আমরা আল্লাহ ছাড়া কারোর বন্দেগী ও দাসত্ব করবো না৷ তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবো না৷ আর আমাদের কেউ আল্লাহ ছাড়া আর কাউকেও নিজের রব হিসেবে গ্রহন করবে না ৷ যদি তারা এ দাওয়াত গ্রহণ করতে প্রস্তুত না হয়, তাহলে পরিষ্কার বলে দাওঃ ‘‘তোমরা সাক্ষী থাকো, আমরা অবশ্যি মুসলিম”। সুরা আল-ইমরান-৬৪

মহান আল্লাহ উনার নবীকে বলছেন, ইসলাম ধর্মে বিভেদ তৈরী করা নিষিদ্ধ। আবার বিভক্ত দলগুলোকেও উল্লাস করতে নিষেধ করা হচ্ছে। নিজেকে কেউ হানাফী,আহলে-হাদীস,শাফেয়ী,হাম্বলী,মালেকী,সালাফী, ইত্যাদি বলে পরিচয় দিতে পারবেনা। উপরের আয়াতগুলোতে দেখা যাচ্ছে মুহাম্মাদ(সঃ) এর আগে্ও সমস্ত নবীকে মহান আল্লাহ মুসলিম বলে সম্বোধন করেছেন। আর আমাদের প্রয়ি নবী কি ছিলেন ? তিনি হানাফী,আহলে-হাদীস,মালেকী,হাম্বলী কি ছিলেন ? তিনি ছিলেন মুসলিম। সমস্ত আসমানী কিতাব ও আল-কুরআনে আল্লাহ আমাদের মুসলিম বলিএ ডেকেছেন। সুরা হজ্জের ৭৮ নাং আয়াতসহ মোট ৭টি আয়াতে মহান আল্লাহ আমাদের “মুসলিম” বলে পরিচয় দেবার জন্য বলেছেন। তাহলে মতভেদটা আসছে কোথা থেকে ?

১২) নিজেদের সম্পর্কে চার ইমামের মূল্যায়ন

ইমাম আবু হানিফা

ইমাম আবু হানিফা(র),ইমাম মালেক(রা),ইমাম(শাফেয়ী) এবং ইমাম আহমদ বিন হাম্বল(রা)-এর মধ্যে সবার আগে এসেছেন ইমাম আবু হানিফা। তিনি জন্মগ্রহন করেন, ৭০১ খৃষ্টাব্দে আর ইন্তেকাল করেন ৭৬৭ খৃষ্টাব্দে।(হিজরী ১৫০ সালে)।

ক) ইমাম আবু হানিফা (উনার ছাত্র আবু ইউসুফের বর্ননানুযায়ী) বলেছেন, “হে ইয়াকুব ! তারা অভিশপ্ত হোক যারা আমার মতামতগুলো লিখে রাখে। কারন আমি আজকে কিছু বল্লাম, কালই হয়তো সেটা বাদ দিতে পারি। হয়তো আগামীকাল একটা মতামত দিব আর পরের দিনই সেটা আবার বাতিল করে দিব”।

তাহলে ইমাম আবু হানিফা(র) , তিনি তার মতামত লিখে রাখাকে উতসাহিত করেননি।, যদি না সেটার ব্যাপারে একমত হয়। সব বিশেষজ্ঞ একমত হলে তিনি সেটা লিখে রাখার অনুমতি দিতেন।

খ) ইমাম আবু হানিফার(র) আরেক ছাত্র ইমাম যুফারের কথানুযায়ী ইমাম আবু হানিফা বলেছেন, আমাদের সাবধান থাকতে হবে,আমরাতো মানুষ আমাদের ভুল হয়ে যেতে পারে।আমি যে মতামতটা দিয়েছি,কাল সেটা বদলায়ে দিতে পারি।আমি লোকজনকে নিষেধ করি,কোন প্রমান ছাড়া মতামতটা প্রচার করতে। তারমানে আপনি যদি কোন প্রমান না পান, তাহলে উনার মতামতগুলো প্রচার করতে পারবেন না।

গ) ইমাম আবদুল বার বলেছেন, “ইমাম আবু হানিফা বলেছেন, সব সহীহ হাদিসই আমার মাযহাব। যদি তোমরা সহীহ হাদিস খুজে পাও, তাহলে সেটাই আমার মাযহাব।যদি তোমরা একটা সহীহ হাদিসও পাও, তাহলে সেটাই আমার জীবন-দর্শন, সেটাই আমার মাযহাব”।

ঘ) ইমাম আবু হানিফার(র) আরেক ছাত্র ইমাম মহাম্মাদের কথানুযায়ী, “ইমাম আবু হানিফা(র) বলেছেন, যদি আমার কোন ফতোয়া আমার কোন একটা মতামত আল্লাহর কিতাবের বিরুদ্ধে যায় এবং তা রাসুল(সঃ)-এর কথার বিরুদ্ধে যায়, তাহলে সে মতামত বাতিল করে দাও”।

ইমাম মালিক(র)

ক) ইমাম মালিক(র) বলেচেন, “যদি আমার কোন মতামত, আমার কোন ফতোয়া আল্লাহর কুরআন ও রাসুলের(সঃ) হাদিসের বিরুদ্ধে যাচ্ছে, তখন আমার ফতওয়া বাতিল করে দাও”।

ইমাম শাফেয়ী(র)

ইমাম শাফেয়ী(র) ইমাম মালিকের(র) ছাত্র ছিলেন, আর ইমাম আবু হানিফার(র) একজন ছাত্রের ছাত্র ছিলেন।

ক) ইমাম শাফেয়ী(র) বলেন, “যদি দেখো আমার মতামত বা ইমাম মালিকের(র) মতামত বা ইমাম(র) আওয়াযীর মতামত, তাহলে আগে দেখো যে, সেটা কোথা থিএকে এসেছে ? সেটার উতস কোথায় ? আমার মতামত তোমরা অন্ধভাবে অনুসরন কোরনা। যদি কোন সহীহ হাদিস খুজে পাও, তাহলে সেটাই আমার মাযহাব”।

ইমাম শাফেয়ী(র) বাগদাদে অবস্থান কালে ,একটা ফতোয়ার বই লিখেছিলেন, সেটার নাম ছিল ‘আল-হুজ্জা’। পরবর্তীতে তিনি একবার মিসরে গিয়ে আবার ফিরে এসে, ইমাম লায়েক ইবনে সাদের ছাত্রদের অধীনে পড়াশুনা করলেন। এই সময়ে অনেক বিষয়ে তার দৃষ্টিভংগি বদলায়ে যায়। ফলে তিনি ‘হা’লুম’ নামে আরেটি বই লিখেন।

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল(র)

তিনিও ফতোয়ার ব্যাপারে একই মত প্রকাশ করতেন। বরং উনি আরও বেশী কঠোর ছিলেন।মতামত যাচাই করার জন্য তিনি সেগুলোর উতস যাচাই করার কথা বলতেন। উনার কোনো ফতওয়া কুরআন ও সুন্নাহর বিরুদ্ধে গেলে, তিনি তখনি সেটা বাতিল করে দেবার কথা বলেছেন।

মাযহাব কি ?

মাযহাব শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘যাওয়ার রাস্তা’।মাযহাবের আরেকটি প্রতিশব্দ হচ্ছে

‘সুন্নাহ’।নবীজীর ‘সুন্নাহ’ মানে নবীর দেখানো পথ্।এই ৪ জন ইমামই বলেছেন, সহীহ হাদিস পাওয়া গেলে ,উনাদের মতামত বাদ দিতে।কাজেই উনাদের মাযহাব ছিল নবীজীর(সঃ) মাযহাব। উনারা কেউ নূতন কোন মাযহাব চালু করেন নি। খৃষ্টানদের মধ্যেই এরকম একটা ভুল ধারনা চালু আছে।যিশুখৃষ্ট খৃষ্টান ধর্ম প্রচার করতে আসেননি। তিনি এসেছিলেন, ইসলাম ধর্ম প্রচার করতে।একই ভাবে এই ইমামগন এসেছিলেন আমাদের জ্ঞ্যান দিতে। তারা নবীজী(সঃ)-এর মাযহাব ছাড়া অন্য কোন মাযহাবে ছিলেন না।

ক) “হে ঈমানগারগণ ! আনুগত্য করো আল্লাহর এবং আনুগত্য করো রসূলের আর সেই সব লোকের যারা তোমাদের মধ্যে দায়িত্ব ও ক্ষমতার অধিকারী৷ এরপর যদি তোমাদের মধ্যে কোন ব্যাপারে বিরোধ দেখা দেয় তাহলে তাকে আল্লাহ ও রসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও৷ যদি তোমরা যথার্থই আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান এনে থাকো ৷ এটিই একটি সঠিক কর্মপদ্ধতি এবং পরিণতির দিক দিয়েও এটিই উৎকৃষ্ট”৷

সুরা আন-নিসা-৫৯

খ) তাহলে দেখা যায়, এই ইমামগনের কাছে জ্ঞ্যানের জন্য আমরা যেতে পারি কিন্তু কোন কারনে উনাদের মধ্যে মতভেদ হলে, আমাদের অবশ্যই কুরআন-সুন্নাহর দিকে ফিরে যেতে হবে।

কিছু মুসলিম আছে, যারা আমাকে প্রশ্ন করতে পারে,”ভাই জাকির! আপনি ভালো বল্লেন। যেসব লোকেরা কুরআন-হাদিসের জ্ঞ্যান আছে, আতদের জন্য এটা জানা সহজ যে, কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল।কোনটা সহীহ হাদিস আর যায়ীফ।কুন্তু সাধারন মুসলিমরা বুঝতে পারেনা, কোনটা ঠিক আর ভুল।তাহলে তাদের উপায় কি? এজন্য আমরা তাকলীদ বা অন্য কাউকে অনুসরন করি।

তাকলীদের স্বরুপ

কোন ইমামের অনুসরন করলে তাকে ‘তাকলীদ’ বলা হয় না্বরং সেটাকে বলা হয় ‘মুকাল্লিদ’।যদি দেখা যায়,আপনার ইমাম ভুল করছে,সেটাকে শুধরে দেবার পরও আপনি ‘মুকাল্লিদ’ থাকবেন।কোন ইমামের কোন মতামত কেউ ভুল প্রমান সত্বেও,

আপনি তা অন্ধ ভাবে অনুসরন করলে,সেটাকে বলা হয় ‘তাকলিদ’।আমরা তাকলীদ করবো ‘আল্লাহ ও তার রাসুলের’।

ইসলামে গুরুত্বপূর্ন ক্যাটাগরি মোট ৪টা।প্রথম আল-কুরআন।।যদি কুর আনে না পাওয়া যায়, তাহলে সহীহ হাদিস। হাদিসগুলোর মধ্যে নবীজী(সঃ) যে নির্দেশ দিয়েছেন,সেগুলোর গুরুত্ত,তিনি যা করেছেন.তার চেয়ে বেশী।যদি নবীজীর কথা আর কাজের মধ্যে পার্থক্য থাকে, সেখানে কথার গুরুত্ব বেশী।তৃতীয় গুরুত্বপূর্ন উতস হচ্ছে,সাহাবীগন।সাহাবীদের মধ্যে মোটি তিনটি প্রজন্মঃ- সাহাবী,তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীন।সাহাবীদের একজনের কথার চেয়ে কয়েক জনের কথা বেশী গুরুত্বপূর্ন। তারপর তাবেয়ীন ও তাবে-তাবেয়ীন।এর মধ্যে সেরা হচ্ছে ‘সম্মিলিত সিদ্ধান্ত’ বা ‘ইজমা’। চতুর্থ বা শেষ উতস হচ্ছে কিয়াস। যদি কুরআন,হাদিস কিংবা সাহাবীদের মধ্যে সমাধান না পান, তবে ব্যবহার করতে হবে ‘কিয়াস’। কিয়াস হচ্ছে সাদৃশ্য দেখে অনুমান করা।

ইসলামী শরিয়তের ভিত্তি

পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতের দু’টো অর্থ হতে পারে। যেমনঃ-

ক) “আল্লাহর পথে যারা নিহত হয় তাদের মৃত বলো না, বরং তারা জীবিত”। সুরা বাকারা-

ক) এখানে অনেকে বলতে পারেন, তাহলে তো তারা বেচে আছেন।তাদের সাথে কথা বলতে পারবো।এখন যদি এই শহীদগন জীবিত হন, তাহলেতো আমাদের নবীজীও জীবিত আছেন।খুব সুন্দর যুক্তি।কিন্তু সাহাবাগন এটাকে কিভাবে নিয়েছিলেন ? উনারাতো নবীর(সঃ) জানাযা পড়েছেন ও উনাকে কবরস্থ করেছেন। জীবিত মানুষের কি জানাযা হয় ?

খ) আহলে হাদীসঃ- একদল লোক আছে, তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা বলে, আমরা আহলে হাদীস। আমি বলি, আহলে হাদীসের অর্থ কি ? তারা বলে,আমরা হাদীসের অনুসারী।আমি তাহলে তো আমাকে বলতে ‘আহলে সহীহ হাদিসের’ অনুসারী। কারন হাদিসে মওজু(মওজু)ও যায়ীফ(দূর্বল) হাদিস রয়েছে। হাদিস কিংবা কুরআনে কোথায় আছে নিজেদের ‘আহলে হাদীস’ বলে পরিচয় দেবার জন্য ? কিন্তু ‘মুসলিম’ বলে পরিচয় দেবার কথা বলা আছে।

গ) সালাফীঃ- একটা দল আছে, তারা নিজেদের সালাফী বলে পরিচয় দেয়্।কোথায় আছে নিজেদের ‘সালাফী’ বলে পরিচয় দাও ? কিছুদিন আগে একজন সালাফি একটা হাদিস দেখালো,যেখানে নবী(সঃ) বলছেন,আমি একজন ‘সালাফী’।এটা মুসলিম হাদিস নং-২৪০৬ ও এটা সহীহ হাদিস।তবে এই শব্দটা মাঝখান থেকে নেয়া।

মুহাম্মাদ(সঃ) তার কন্যা ফাতেমা(রাঃ)কে বল্লেন, আমি একজন উতকৃষ্ট সালাফ তোমার জন্য। আরবী ভাষায় সালাম অর্থ ‘পূর্বসুরী’ বা পূর্বপুরুষ। নবী(সঃ) যে অর্থে ‘সালাফ’ ব্যবহার করেছেন,সেটা ঠিক আছে। কিন্তু ইসলামিক দৃষ্টিকোন থেকে এধরনের প্রয়োগ সঠিক না।এমনও হতে পারে আমরা, আমাদের ছেলে-মেয়েদের মন্য উতকৃষ্ট সালাফ নই।

ঘ) অষ্ট্রেলিয়া সফরেঃ- লেকচার ট্যুরে সেখানে প্রথম যাই।সময় হলে, সেখানে নামাজ আদায় করলাম। উনাদের একজন শব্দ করে বল্লো, আপনার তো দেখি আমাদের মতো করে নামাজ পড়েন। আমি আমরা তো নবীজীর(সঃ) মতো করে নামাজ পড়ি। আর উনাদের এটাই বলা উচিত ছিল। তারা ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ডাঃ জাকিরের বক্তব্য সঠিক। আমার ব্যাক্তিগত ধর্ম-বিশ্বাস জানতো না।

ঙ) শেখ নাসিরউদ্দিন আলবানিঃ- অষ্ট্রেলিয়ায় একজন মাত্র বল্লো, আপনি কি নাসির উদ্দিন আলবানিকে চেনেন ? আমি বল্লাম উনাকে আমি ভালভাবে চিনি।উনি বর্তমান যুগের শ্রেষ্ঠতম মুহাদ্দিসগনের একজন।একথা বলে তিনি albani.com –এ গিয়ে তার ফতোয়া down load করে বল্লো, এই ফতোয়ার উত্তর দিন। মুসলামানরা সিজেদের ‘সালাফী’ বলে পরিচয় দেয়াটা ফরয বলে মনে করতেন, নাসিরউদ্দিন আলবানি। তিনি বলার কারন হচ্ছেন ইমাম আবু হানিফা ও বুখারীর একটা হাদিস। জনাব নাসিরউদ্দিন আলবানি লিখেছেন, ‘ইমাম আবু হানিফা বলেছেন,-হাদিসে আছে- ইসলামে ৭৩ টা দল হবে এবং তার মধ্যে একটা দল মাত্র নাজাত পাবে। আর সেই দল হচ্ছে-‘জামাহ’।এই ‘জামাহ’ অর্থ হচ্ছে ‘সালাফে সালাহীন’ তথা তিন প্রজন্ম”।

ইমাম ইবনে তাইমিয়ার উদ্ধৃতি দেখালো ‘তোমাদের জন্য বাধ্যতামূলক সালাফে সালেহীনকে অনুসরন করা’।

ইমাম শাফেয়ীর উদ্ধৃতি দেখালো ‘এটা বাধ্যতামূলক তোমরা মেনে চলবে তিন প্রজন্মকে’।

আমি বল্লাম এখানে কোন সমস্যা নাই।আমিতো মেনেই চলি। কিন্তু কেউ তো বলেনি তোমরা নিজেদের সালাফী বলে পরিচয় দিতে।

এখানে যেটা দেয়া হয়েছে তাহোল নাসির উদ্দিন আলবানির একটা ‘কিয়াস’।কিন্তু ‘কিয়াস নয়,আমি চাই সরাসরি কুরআন কিংবা হাদিস’। একজন প্রশ্নকারী এক জায়গায় নাসির উদ্দিন আলবানীকে বলছেন, আমি একজন মুসলিম ? তিনি বলছেন, কোন ধরনের মুসলিম, খারেজী,মুতাজিলা,শিয়া,রাফেয়ী,সুন্নী ,কাদরী? প্রশ্নকারী বল্লেন কুরান-হাদিস মেনে চলা একজন মুসলিম।কোন সুন্নাহ সুন্নাহ তো খারেজী,শিয়া,কাদলি সবাই মেনে চলে ? আমিসেই কুরান হাদিস মেনে চলি, যেভাবে সালাফে সালেহীন ব্যাখ্যা করেছেন। এভাবে জনাব নাসিউদ্দিন আলবানি তর্কে জিতলেন।

ঠিক একই ভাবে প্রশ্ন করা যায়, কোন সালাফে সালেহীন ?সালাফীদের মধ্যেও বিভিন্ন দল আছে।কুতুবী,সুরুবী,মাদখালী । যখন শিয়ারা আসলো সুন্নীরা হানাফী,মালেকী,শাফেয়ী ও হাম্বলীতে ভাগ হোল। এভাবে প্রশ্ন করে প্রতিটা শাখাকে বিপর্যস্ত করা যাবে।

চ) নবীর(সঃ) সময়ঃ- সেই সময়েও ভন্ড লোক ছিল।তারা ছিল মুনাফিক।সাহাবীগন তাদের নাম বদলাননি।খারেজীরা নিজেদের ‘খারেজী’ বলতো। কিন্তু সাহাবীরা তাদের মুসলিম বলতো। মুতাজিলাদের বেলায়ও একই কথা।

ছ) শেখ উতাইবিঃ- শেখ উতাইবি বলেন, ‘সালাফি’ বলা ভুল ।আবার আলবানি এটাও বলেছেন তুমি নিজেকে ‘সালাফী’ বলে যদি মনে কর,তুমি শ্রেষ্ঠ কিংবা তুমিই বেহেস্তে যাবে, তাহলে ভুল।আমি শেখ উতাইবির মত ভুল বলবোনা,তবে মুসলিম পরিচয় দেয়াটা ভাল।ক্ষেত্র-বিশেষে এটা মোবাহ।

জ) মুহাজের-আনসারঃ- একবার মদিনায় আনসার মোহাজির মধ্যে কোন্দল হোল। তখন সব আনসার ও মোহাজিররা একসাথে হোল।নবীজী(সঃ) বল্লেন, এই জাহেলিয়াতের সম্বোধনের কারন কি?আনসার হচ্ছে সবীজীর সাহায্যকারী। আর মুহাজির হিজরত করেছেন, আল্লাহ ও তার রাসুলের পথে। কাজেই মুসলিম বলা সবচেয়ে ভাল।

৭) আল্লাহর জানাঃ- আল্লাহ অবশ্যই জানতেন, মুসলিমদের মধ্যে মতভেদ হবে।আর এই কথা তিনি কুরআনে বলেছেন।নবীজীও হাদিসে এই মতভেদের কথা বলেছেন। এই জন্য ঐক্য ঠিক রাখার জন্য, নিজেদের ‘মুসলিম’ বলে পরিচয় দিতে বলেছেন।

ট) নবীর হাদিসঃ- মুহাম্মাদ(সঃ) বলেছেন, “একটা সময় আসবে যে সময় সমাজে অনেক খারাপ কাজ হবে।আর কখনও যদি কেউ ‘মুসলিম উম্মাহর’ ঐক্য নষ্ট করতে চায়,তাকে তরবারী দিয়ে আঘাত করতে হবে।তাতেও যদি সে ক্ষান্ত না হয়, তাহলে তাকে মেরে ফেলো”। মুসলিম-৩য় খন্ড-৪৫৬৫

হুযায়ফা ইবনে ইয়ামান(রাঃ) বলেছেন, লোকজন নবীজীকে জিজ্ঞাসা করতো কোন জিনিসটা ভাল ? তবে আমি ভয় পেয়ে সবীজীকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম কোনটা খারাপ জিনিস ?অজ্ঞানতার কারনে আমরা বহু খারাপ কাজ করেছি,মহান আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে ফিরায়ে এনেছেন। এরপরে আর কি কোন খারাপ কাজ হবে? নবীজী(সঃ) বল্লেন, হা, খারাপ কাজ হবে। তিনি বল্লেন সেই খারাপ কাজের পর কি কোন ভাল কাজ হবে ? হা। তবে সেই ভাল কাজের মধ্যেও কিছু খারাপ কাজ থাকবে।

সাহাবীগন বল্লেন, সেই খারাপ কাজ কি ? তোমাদের মধ্যে কিছু লোক থাকবে, যারা এমন কিছু জিনিস প্রচার করবে, যেগুলো আমার সুন্নাহ না।সাহাবীগন বল্লেন, এটার পর কি কোন খারাপ কাজ হবে? হা। কিছু লোক থাকবে যারা তোদের দোযখে আহ্বান জানাবে। হুযাইফা(রাঃ) বল্লেন, তখন আমাদের কি করা উচিত? নবীজী(সঃ) বল্লেন, তোমরা তোমাদের মুসলিম দল আর নেতাকে আকড়ে ধরে রাখবে। সাহাবীগন বল্লেন কোন মুসলিম দল কিংবা নেতা যদি না থাকে কি করবো ? নবীজী(সঃ) উত্তর দিলেন, যদি কোন দল বা নেতা না থাকে, তাহলে নিজেকে বিচ্ছিন্নকরে ফেল।প্রয়োজনে গাছের শিকড় কামড়ে পড়ে থাকবে, যতক্ষন না আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সামনা-সামনি হচ্ছো ।

Advertisements